একাধিক সূত্রের অভিযোগ, সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম সরাসরি এই পুকুর চুরির সঙ্গে জড়িত। আমিরুল ইসলাম একজন সহযোগি অধ্যাপক, যিনি ২০ তম বিসিএস (সমাজ বিজ্ঞান) এর শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা

আপনাদের কি খেয়াল আছে ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে আট পর্বের সিরিজ রিপোর্ট শুরু করেছিলাম?
ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে১৫টি কড়ই গাছ ৬০ কোটি দাম ধরা হয়েছিল।২১টি নারিকেল গাছ ১৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। ৬ কোটি টাকা দাম ধরা হয়েছিল ছোট্ট পরিতক্ত্য একটা বাড়ি। টিনের দুইটি চালের দাম কত ধরা হয়েছিল জানেন?বেশি না ,মাত্র ৬ কোটি টাকা।

এই হরিলুটের মূল অভিযুক্ত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ণাধীন এই প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম।
আমি ২০১৯ সালে ডিসেম্বর মাসে শুরু করেছিলাম সিরিজের প্রথম পর্ব। আস্তে আস্তে ৮ পর্ব লিখেছিলাম। মাঝে অনেক কাহিনি। লক্ষ লক্ষ টাকার ঘুষের প্রলোভন। কাজ না হওয়ায় অনেক চাপ,হুমকি।
সিরিজের মাঝে অপ্রত্যাশিত বিরতি ছিল। কিন্তু নিউজ থামাতে পারিনি। পরে আরো কমপক্ষে ৫ টি ফলোআপ নিউজ লিখেছিলাম।

১৫টি কড়ই গাছ ৬০ কোটি!

আমি সিরিজ শুরু করার পরে দৈনিক যুগান্তর, ইন্ডেপেন্ডেন্ট টিভির তালাশ টিম, দিপ্ত টিভি এবং চ্যানেল আই টিভি সহ মূলধারার অনেক গনমাধ্যমও এই প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ করেছিল।
এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় একটি তদন্ত কমিটি করে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিভাগীয় মামলার সিদ্বান্ত হয়। কিন্তু দিনের পর দিন সেই ফাইল রহস্যজনক কারনে আটকে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অন্তর্গত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্বে বিভাগীয় মামলা হয় এই প্রকল্পের দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম থেকেই যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই।

১৫টি কড়ই গাছ ৬০ কোটি!

অবশেষে সেই প্রভাবশালী ড. মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্বে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্বান্ত প্রকাশ করা হলো আজ। আজ বিকেলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একটি মতবিনিময় সভায় ব্যস্ত ছিলাম। তাই আগামীকাল বিস্তারিত লিখবো নিউজ আকারে। আজ ব্লগ লিখেই আমার মনের ক্ষুধা মিটাতে হলো।
উল্লেখ্য এদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা আদালতে চলছে সহকর্মীর বেতন অন্য হিসাবে পাঠানোর এবং ওই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। এ ছাড়া ১০ স্কুল প্রকল্পে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক)।

লেখকঃ হাবিবুল্লাহ মিজান

বিশেষ প্রতিবেদক, বাংলাদেশ পোস্ট,ধাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here