হাবিবুল্লাহ মিজান

অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অন্তর্গত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক দিল আফরোজ বিনতে আছিরের পদোন্নতি হলো না।

আজ ১০৮৪ জন সহকারী অধ্যাপককে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে আজ পদোন্নতি দেয়া হলেও,শিক্ষা ভবনের আলোচিত এই কর্মকর্তার নাম সেখানে ছিল না।

বিসিএস শিক্ষা ( সমাজ বিজ্ঞান) ক্যাডারের মোট ১১ জনের পদোন্নতি হলেও কপাল খুলেনি তাঁর।

দিল আফরোজ বিনতে আছির নিজেই আজ রাতে নিশ্চিত করেছেন যে,তাঁর পদোন্নতি হয়নি আজ। তবে এই বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই কর্মকর্তা ২৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পান। সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি কলেজে মাত্র ছয় মাস শিক্ষকতা করেছেন এই নারী। তারপর ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কর্মরত আছেন  মাউশির প্রধান কার্যালয়ে শিক্ষা ভবনেই।

এই ১৫ বছরে নানা অনিয়মে দিল আফরোজের নাম এসেছে। তারপরও মাউশির সর্বশেষ পদোন্নতির খসড়া তালিকায় নাম এসেছিল তার। এ কারণে বিতর্ক দেখা দেয়ায় যোগ্যদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকেছিল বলে শুনা গিয়েছিল।

সর্বশেষ ২০১২ সালে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হন মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক। সেই থেকে তিনি শিক্ষক হয়েও শিক্ষাদানের বাইরে আছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে হয়েছে একটি মামলাও।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে উঠে দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা আদালতে চলছে সহকর্মীর বেতন অন্য হিসাবে পাঠানোর এবং ওই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। এ ছাড়া ১০ স্কুল প্রকল্পে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক)।

আইন-বিধান মোতাবেক কারও বিরুদ্ধে সিআর মামলা বা বিভাগীয় মামলা চললে তিনি পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না। কিন্তু দিল আফরোজ বিনতে আছিরের নাম পদোন্নতির খসড়া তালিকায় কীভাবে গেল, সে বিষয়েও মাউশির দায়িত্বরত কেউ মুখ খুলেন দীর্ঘদিন।

তাঁর সম্ভাব্য পদোন্নতি সম্পর্কে এবং তাঁর বিরুদ্বে নানা অভিযোগের বিষয়ে গত ১২ জুন  আমার সাথে আলাপকালে দিল আফরোজ বলেছিলেন,প্রথমে আপনি অভিযুক্তের সাথে কথা বলুন। আমি  যখন জিজ্ঞাস করলান যে আপনি নিজেই অভিযুক্ত,তখন তিনি বলেছিলেন,আমি মামলার কোনও কাগজ পাইনি। আপনি নিজস্ব উপায়ে এটি অনুসন্ধান করতে পারেন।

তাঁর বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় মামলা নেই বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পদোন্নতি কমিটির সদস্য মোঃ ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম কীভাবে পদোন্নতির খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

উত্তরে তিনি বলেছিলেন,দিল আফরোজ বিনতে আছিরের নামটি খসড়া তালিকায় সত্যিই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা তা আমি ঠিক বলতে পারবো না। কিভাবে এটা সম্ভব? এটা সম্ভব নয়।

যদি কোনও ফৌজদারী মামলা বা বিভাগীয় মামলা কারও বিরুদ্ধে থাকে,তবে তাদের নাম সাধারণত পদোন্নতির খসড়া তালিকায় আসে না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

আমি একাধিকবার চেষ্টা করেছিলাম মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ডঃ সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুকের সাথে কথা বলার জন্য। প্রফেসর ডঃ সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুকের পদোন্নতি কমিটির সদস্য সচিবও ছিলেন। ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেছিলাম।

তিনি ফোন রিসিভ করেছিলেন একদাধিকবার। কিন্তু কোন কথা না বলেই কয়েক সেকেন্ডে পরে লাইন কেটে দিয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার বিষয়েও তিনি কোন সাড়াও দেননি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ মাহবুব হোসেনের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা করেছিলাম। মোঃ মাহবুব হোসেনের পদোন্নতি কমিটিরও সভাপতি ছিলেন। তিনি একবারও ফোন রিসিভ করেন নাই। এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপের বার্তাগুলির বিষয়েও উত্তর দেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here