১২শ টাকার যন্ত্রাংশ ৩৬ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছে বিআইডব্লিউটিসি

হাবিবুল্লাহ মিজান

ফেরী মেরামতের জন্য ২০০ টাকা দামের ‘কাপসীল’ নামে একটি যন্ত্রাংশ ৬ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। এর ফলে ৬ টি কাপসিলের পেছনে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব এই সংস্থাটি। অথচ এর বাজার দর মাত্র ১২শ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির এমন দূর্নীতি বহুল আলোচিত বালিশ কান্ডকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

১২শ টাকার যন্ত্রাংশ ৩৬ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছে বিআইডব্লিউটিসি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন ওই সময় কাপ সীলের সাথে আরও প্রায় ২০০ প্রকারের মালামাল কেনা হয়। অন্যান্য মালামাল কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এমন দূর্নীতি হতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন।

তিনি আরও বলেন শাহ্ পরাণ পুনর্বাসন মেরামত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। অথচ প্রথম শ্রেণীর একটি নতুন ফেরী কাবেরী তৈরির খরচ হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।

আমার অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিআইডব্লিউটিসিতে শক্তিশালী চক্র রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম দূর্নীতি করে আসছে। বিষয়টি এমন যে, অনিয়ম-দূর্নীতিই তাদের কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে ফেরীতে ’কাপ সিল’ নামে ক্ষুদ্র একটা যন্ত্রাংশ থাকে। স্থানীয়ভাবে রাবার দিয়ে তৈরি করা হয় এটি। ক্ষুদ্র এই যন্ত্রাংশটির আনুমানিক বাজার মূল্য মাত্র ২শ টাকা। অথচ কয়েক বছর আগে শাহ পরান নামে একটি ফেরী মেরামতের জন্য এটি ৬ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়। দূর্নীতির এমন খবর পেয়ে ছয় বছর আগে বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন দিপু লিখিত অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

এতে বলা হয়,  দুশো টাকা করে ছয়টি কাপ সীলের মুল্য প্রায় ১২শ টাকা। কিন্তু ফেরী শাহ পরাণ পুনর্বাসনে পরিশোধিত ভাউচার বিলে প্রতিটি কাপ সীল ৬ লক্ষ টাকা হিসাবে মোট ৩৬ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। শাহ্ পরাণ মেরামতের একটি আইটেমেই প্রায় ৩৫ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার অনিয়ম হয়েছে।

জানতে চাইলে এমদাদ হোসেন দিপু আমাকে বলেন ‘২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। যতদূর জানি, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন,“ এটি আসলে অনেক পুরাতন ঘটনা। তখন আমি এই দায়িত্বে ছিলাম না। তারপরেও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।”

প্রতিষ্টানটির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল গফুর সরকার ওই সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) ছিলেন। তার কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি দু’রকম বক্তব্য দেন। একবার বলেন-এটি আসলে টাইপিং মিসটেক ছিল। কিছুক্ষণ পরই তিনি স্বীকার করেন বিষয়টি নিয়ে তখন অডিট আপত্তি উঠে। পরক্ষনেই আবার দাবি করেন-এটি তো অনেক আগেই সমাধান হয়ে গেছে। তবে কিভাবে সমাধান হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারেননি।

এর আগে রূপপুর পারমানিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের জন্য আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনায় দুর্নীতি ধরা পড়ে। সেখানে একটি বালিশের দাম দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন আসবাবপত্রেও অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছে।

( আমার মূল লেখাটি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকায় ১৭ ই নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here