বিয়ের আসরে বসেও অফিস! জনবল নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ

হাবিবুল্লাহ মিজান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়ণাধীন ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকল্পে জনবল নিয়োগেও ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।

তিনি তাঁর ভাইকে কোন নিয়োগ বিজ্ঞাপন ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দিয়েছেন। তার ভাগ্নেকেও নিয়োগ দিয়ে অনেকটা বসিয়ে বসিয়ে মাসের পর মাস সরকারি তহবিল থেকে টাকা দিচ্ছেন।

বিয়ের আসরে বসেও অফিস!
জনবল নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ

শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভারকেও প্রকল্পে নিয়োগ দিয়ে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ এসেছে।

প্রকল্পে কম্পিউটার অপারেটর দুই জন নিয়োগ দেয়ার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল। এক বছর পর একজন চলে যাওয়ায় শাহরুলকে নিয়োগ দেওয়া হয় কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই।

আগের নিয়োগের সময় শাহরুলকে ৩য় করে রাখা হয়েছিল। শাহরুল ১৫ নাম্বারের কম্পোজ পরীক্ষায় মাত্র ৪ পেয়েছিল। তাকে ভাইবা পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে ৩য় করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী যে কোন নিয়োগের অপেক্ষমান তালিকার ৬ মাস কার্যকারীতা থাকে। সেক্ষেত্রে এ নিয়োগের জন্য পুনরায় বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন ছিল। তবে এ ক্ষেত্রেও কোন নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। আমিরুল তাঁর ভাইকে এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে নিয়োগ দিয়েছে।

শাহারুল এ প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর হয়েও পিডির ব্যক্তিগত প্রকল্পের অফিস করছেন। কম্পিউটার অপারেটর শাহরুলের বিবাহের দিন তাকে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বরত দেখানো হয়। কিন্তু সেদিন তিনি যশোর বিয়ের আসরে ছিলেন এবং ৯দিন পর অফিসে আসেন। তবে পুরো বেতনই গ্রহণ করেন প্রকল্প থেকে।

পিডি তাঁর ভাগ্নে মোঃ তৌফিকুর রহমানকে ক্যাশ পিয়ন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তবে কাজ না করেও প্রতি মাসে বেতন তুলছেন। সেখানে ক্যাশ পিয়নের কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোঃ মনিরুল ইসলাম। তবে বেতন যাচ্ছে তৌফিকের পকেটে। নিজের ভাই ও ভাগ্নেকে প্রকল্পে নিয়োগ দিয়ে পুরো প্রকল্প  নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

প্রকল্প দপ্তর থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে ৬/১১ ( ঢাকা মহানগরীতে ৬ টি মহাবিদ্যালয় ও ১১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প ) প্রকল্পে আমিরুলকে সহায়তাকারী সরোয়ার হোসেনকে হিসাব রক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য হিসাব রক্ষক পদে আবেদনকারীদের ২০১৮ সালের নিয়োগ হুমকি দেয়া হয়।

এ কারণে হিসাব রক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষায় কেউ উপস্থিত হয়নি। ৬/১১ প্রকল্প ১ বছর পর প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে সাজানো নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে হিসাব রক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে।

বর্তমানে পিডির টাকায় হিসাব রক্ষক সরোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে কথিত এক ছাত্র নেতা  মাউশি অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এবং দরপত্রের ব্যবসায় করছেন।

পিডি সকল প্রকল্পের আগে পিডিদের সাথে আলোচনা করেন এবং সকল তথ্য ফাঁস করে তাকে বলে দেন। সে অনুযায়ী সেই ছাত্র নেতা দরপত্র দাখিল করে কাজ পেয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে সেই ছাত্র নেতার মিশন এন্টারপ্রাইজকে এ প্রকল্পের আউট সোর্সিং কাজ পাইয়ে দেয়। ভূয়া ব্যাংক গ্যরান্টি দিয়ে ‍চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভূয়া ব্যাংক গ্যারান্টি চিহিৃত করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।

ব্যাংক গ্যারান্টি ভূয়া জেনেও, পিডি নিজে চিঠি চালাচালি করে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টির বিরোধিতা করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের থেকে ফাইলটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেন। মিশন এন্টারপ্রাইজ এর সকল দরপত্রের ডকুমেন্ট প্রকল্প দপ্তর থেকে পিডির পরামর্শ মতে এ  প্রকল্পের হিসাব রক্ষক সরোয়ার তৈরি করেন।

এই প্রকল্পের ১০টি সরকারি হাইস্কুলে ৪৪০ জন ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণির লোক নিয়োগ করার প্রভিশন থাকায় সকল পদ আগেই বিক্রয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

এ ব্যাপারে ড. মো. আমিরুলের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি। এছাড়া অভিযুক্ত পিডির ভাই শাহারুলও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে পিডির ভাগ্নে মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, আমি আমিরুলের ভাগ্নে না,আমি খুব গরীব বলে চাকুর দিয়েছেন।’

( আমার মূল লেখাটি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকায় ১২ ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here