প্রকল্প পরিচালকের গাড়ী বিলাস

হাবিবুল্লাহ মিজান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ণাধীন ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে  প্রকল্পের ১১২৪ কোটি টাকার বড় অংশ লোপাটের আয়োজন করার অভিযোগ এসেছে। এই প্রকল্পে তিনি  দুইটি গাড়ী ক্রয়েও  ৩৩ লক্ষ আশি হাজার টাকার অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ।

প্রকল্প পরিচালকের গাড়ী বিলাস

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প পরিচালক তার নিজের জন্য নির্ধারিত জিপ গাড়ী ক্রয়ের জন্য ৫৫.২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ডিপিপি’কে ক্রস করে ৯১.২৬ লক্ষ টাকায় মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত পাজেরো কিউএক্স মডেলের ঘ-১৫-৪৫৯২ জিপ গাড়ীটি ক্রয় করেছেন। তিনি ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা অর্থাৎ সহযোগী অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত মডেলের গাড়ী ক্রয় করে ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করছেন।

আরো জানা গেছে যে, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত হায়েচ গাড়ী ক্রয়ে ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৪৩.৩১ লক্ষ টাকায় হায়েচ ক্রয় করেন। এখানেও প্রকল্প পরিচালক তিন লক্ষ একত্রিশ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করেছেন। এতে করে দুইটি গাড়ী ক্রয়ে মোট প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অডিট আপত্তির চিঠির মিথ্যা উত্তর দেয়া হলেও ফাইল নোটে তিনি কোন প্রমানই রাখেননি।

জিপ গাড়ী ও হায়েচ গাড়ী দুইটি পিডি প্রকল্প পরিচালক তার পারিবারিক কাজে তাঁর মেয়ে ও স্ত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। জিপ গাড়ীতে মাসে তের হাজার টাকার তেল খরচ করার নিয়ম থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা তেল এবং সাতাশ হাজার টাকার গ্যাস খরচ করে চলেছেন। তিনি নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেন না।

প্রকল্পের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রকল্প পরিচালক ৩০/০৭/২০১৮ তারিখ থেকে ১২/০৮/২০১৮ তারিখ মোট ১৪দিন এবং ২৪/০৬/২০১৯ তারিখ থেকে ২৯/০৬/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত ০৬দিন সর্বমোট ২০ দিন বর্হি:বাংলাদেশ ছুটি’তে থাকলেও জিপ গাড়ী তার পরিবারে ব্যবহারের জন্য তেল খরচ হয় ত্রিশ হাজার টাকা, যা নিয়মিতের চেয়েও বেশি হয়েছে। দুটি গাড়ীই প্রকল্প পরিচালকের মেয়ে চার-পাঁচ জন শিক্ষকের নিকট প্র্রাইভেট পড়তে এবং স্ত্রী’র সকল কাজে সপ্তাহে সাতদিন দিনরাত ব্যবহার করেন।

প্রকল্প পরিচালকের ব্যক্তিগত  কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্প ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার রামচন্দ্রপুর মৌজায় চলমান থাকায় তিনি সরকারি গাড়ি প্রায়শই ব্যবহার করেন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুই মাসে জীপ গাড়ী চলেছে ৩,২০০ কিলোমিটার,যা খুব অস্বাভাবিক।

প্রকল্পের দুইটি গাড়ী বাবদ বিভিন্ন সময়ে ৫০,০০০ টাকা ভূয়া মেরামত বিল তুলে নিয়েছেন। সর্বশেষ  এক তথ্যে জানা গেছে গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবত পাজারো গাড়িটি দিয়ে অফিসারস ক্লাবের নির্বাচনে একজন প্রার্থীর সাথে ভোট চাইছেন  মো. আমিরুল ইসলাম।

প্রকল্পের এসকল দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের জন্য দাবী করেছে সচেতন মহল। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাকে মুঠো ফোনে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি।

( আমার মূল লেখাটি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকায় ৯ ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here