অগ্রগতি ১ %,কিন্তু জমির দাম দ্বিগুণ

হাবিবুল্লাহ মিজান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন   প্রকল্পে ২০ একর জমির দাম নির্ধারণ ছিল চারশ কোটি টাকা।

কিন্তু দুই বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ১ % না হলেও নতুন করে জমির দাম দ্বিগুণ করে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে,  ঢাকা জেলার নবীনগরের পাথালিয়া, আশুলিয়ার বাইপাইল, ধামরাই উপজেলার গাওয়াইল, হোমায়েতপুরের বিলামালিয়া, জোয়ারসাহারা, সাতারকুল ও কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচলের ১৭ নম্বর প্লট, সাইনবোর্ড এলাকার জালকুড়ী এবং চিটাগাং রোডের খোদ্দঘোষপাড়া এলাকায় মোট ১০ টি হাই স্কুল স্থাপন করা হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা ( ডিপিপি) অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় ভবন হবে ১০ তলা।  প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যস্ত।

প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য দুই একর করে মোট ২০ একর জমি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা ।

কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি ১% না হলেও ডিপিপির ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে আরডিপিপিতে   একই পরিমাণ জমির দাম ৭৫০ কোটি টাকা করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর থেকে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

দ্রুত টাকা লুটপাটের জন্য একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্র আরডিপিপিটি এই সপ্তাহেই  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ( একনেক) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর চেষ্টা করছে।

ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। একনেক সভায় অনুমোদনও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ১,১২৪ কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এভাবেই চলছে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, “ জমির ক্ষতিপূরণের রেট আগে ছিল জমির দামের দেড়গুণ। কিন্তু সরকার সেটা বাড়িয়ে বর্তমানে তিন গুণ করা হয়েছে। তাই  সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় জমির দাম বেড়ে গেছে।’

তাছাড়া জমির দাম নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অফিস। এখানে আমার দায় নেই বলে তিনি আরো যোগ করেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে ১০টি স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ একর জমির মালিকদের  ক্ষতিপূরণ ২০ গুণ দেয়া হলেও দাম ৪০০ কোটিই হবে না। অথচ এখন ২০ একর জমির দাম ৭৫০ কোটি করার চেষ্টা করছে।

( আমার মূল লেখাটি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকায় ৮ ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here