জুতো দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে এতিম এবং দরিদ্র শিশুগুলো

গতকাল শুক্রবার ( ১৩/১২/২০১৯ ইং) বিকেলে আমাদের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার সাটুরিয়া ইউনিয়নের বাছট গ্রামে অবস্থিত বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নির্মাণাধীন চারতলা বিশিষ্ট শান্তিভবনের কাছে দাঁড়ানো ছিলাম।

জুতো দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে এতিম এবং দরিদ্র শিশুগুলো

সময়টা সন্ধ্যার একটু আগে ছিল। দূর থেকে দেখলাম মাঠে এতিমখানার হেফজ বিভাগের আমার প্রিয় এতিম শিশুগুলো কি যেন খেলছে। মাঠের ভিতর গিয়ে দেখলাম খুবই দরিদ্র পরিবারের এই শিশুগুলো ব্যাডমিন্টন খেলছে। কিন্তু কারো হাতে ব্যাডমিন্টন খেলার র‍্যাকেট নেই। তাই জুতো দিয়ে একেকজন র‍্যাকেট বানিয়েছে। আর সেটা দিয়েই খেলছে।

জুতো দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে এতিম এবং দরিদ্র শিশুগুলো

চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আমার প্রিয় এক মাত্র সন্তান হাছিবুল হাছান হামীমের নিষ্পাপ মুখটা মনে পড়লো। আমি আমার সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ধার কর্জ করে হলেও সে যা চাই,সেটাই দ্রুত কিনে দেয়ার চেস্টা করি। এই শিশুগুলো জুতো দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে দেখলে তাঁদের পিতা-মাতা থাকলে উনারাও অনেক কস্ট পেতেন।

জুতো দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে এতিম এবং দরিদ্র শিশুগুলো

বছর দুয়েক আগে আমি একবার চারটা র‍্যাকেট এবং প্লাস্টিকের এক ডজন কর্ক কিনে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাসে উঠে দেখি শিশুদের জন্য কেনা সেই র‍্যাকেট সেটগুলো নেই। সেদিনও আমার অনেক খারাপ লেগেছিল। পরের মাসে বেতন পেয়ে আবারো চারটি র‍্যাকেট এবং এক ডজন কর্ক কিনে শিশুদের দিয়েছিলাম। সেইগুলো নস্ট হয়ে গেছে গত বছর। এতিমখানার তহবিল সংকটের অভাবে পরিচালনা কমিটি তহবিল থেকে কিনে দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। তাই কেউ যদি এই এতিম এবং দরিদ্র শিশুদের জন্য কমপক্ষে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য চারটি র‍্যাকেট,একটি নেট এবং এক ডজন কর্ক উপহার দিতে পারেন, তাহলে অনেক খুশি হবে নিষ্পাপ শিশুগুলো। বিস্তারিত জানতেঃ

হাফেজ ক্কারী আব্দুর রহমান,

পরিচালক, শহীদ স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা

(বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অঙ্গ প্রতিষ্ঠান)

ফোনঃ ০১৯৯৯১৩৫৮৪৫

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here