Mon. Mar 4th, 2024

ভিডিও দেখা যাচ্ছে যে গ্রামীণ রাস্তাটি,এটি আমার জন্মস্থান মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের বাছট গ্রামের প্রধান সড়ক। আগে কাঁচা ছিল। এখন ইটের সোলিং করা রাস্তা। এই রাস্তার দুই পাশেই পর্যাপ্ত সরকারী খাস জমি ছিল। আমরা বাড়ির মালিকরা নিচু এই খাস জমির সবটুকুই ভরাট করে ব্যবহার করেছি। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পাশেই বাছট শাহী মসজিদের মুসুল্লিগন খুবই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নামাজ পড়তে যেতে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

আমাদের গ্রামের বিকল্প আর কোন ভালো রাস্তাও নাই। এই রাস্তা দিয়েই সাটুরিয়া উপজেলা সদরে কিংবা রাজধানী ঢাকা যাতায়াত করতে হয় আমাদের বাছট গ্রামসহ স্থানীয় একাধিক গ্রামের অধিবাসীদের।

পানি নিষ্কাশনের জন্য অল্প কিছু টাকা খরচ করে পাইপ বসালেই হয়ে যেতো। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান  আনোয়ার হোসেন পিন্টুকেও অনেক বার বলেছি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে।  উনিও একাধিকবার সরকারী প্রজেক্টের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সমাধান করতে ইট ও পাইপও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী পরিবারের বাধার কারনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। অথচ আমরা সব সময় আমাদের যে কোন ভোগান্তির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সর্বোপরি সরকারকেইই দায়ী করি। কখনো নিজেদের দোষ দেয় না।

আমার গ্রামের বিষয়টি যদি বলি,তাহলে বলতেই হচ্ছে, গত ১৪ বছরে একাধিক কাঁচা রাস্তায় ইট সোলিং করা হয়েছে। এমনকি আমার বাড়ির রাস্তাটাও ইট বিছানো। আমার গ্রামের মসজিদ,মাদ্রাসা, ঈদগাহ,কবরস্থান এবং ক্লাব একাধিকবার সরকারী অনুদান পেয়েছে। সর্বশেষ এলাকাবাসীর শত বছরের দাবী এবং স্থানীয় মানুষের সামাজিক আন্দোলনের মুখে প্রায় ৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি ব্রিজ নির্মান শুরু হচ্ছে খুব দ্রুত।

আসলে আমরা উন্নয়নের মজা নিতে চাই সবাই। কিন্তু উন্নয়নের জন্য সামান্য ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী না। বরং ভিলেজ পলিটিক্স,নোংরামী, দলাদলিতে জড়িয়ে যাই। আর ভোগান্তির জন্য শুধু শুধু জনপ্রতিনিধি,স্থানীয় প্রশাসন, সর্বোপরি সরকারকেই দায়ী করি। সব সরকারের আমলে সব দলের লোকজনই এই অন্যায্য কাজটিই করি।

হাবিবুল্লাহ মিজান

সভাপতি

বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি

(বাছট বৈলতলা পল্লী মঙ্গল সমিতির একটি সামাজিক উদ্যোগ)

স্থাপিতঃ ১৯৫৭ইং, গভঃ রেজি নং ঢ-০ ৫৮৭/১৯৬৩ইং

আপনার মূল্যবান মতামতটি শেয়ার করুন