Mon. Mar 4th, 2024

আমাদের এই পারের বাছট,বৈলতলা এবং মুকদমপাড়া এই তিন গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের গাজী খালি নদী দিনে কমপক্ষে ছয়বার পারাপার হতে হয়। প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস করার জন্য প্রথমে সকালে স্কুলে যায় একবার। অনেকে খুব ভোরে প্রাইভেট পড়তে যায় ক্লাস শুরুর আগেই। দুপুরে টিফিন করতে আরেকবার একবার নদী পারাপার হয়। এরপরে আবার স্কুল ছুটি শেষে নৌকায় নদী পারাপার হয়। কিছু শিক্ষার্থী বিকেলেও প্রাইভেট পড়তে নদী পারাপার হয়। এভাবে দিনে ছয়বার নৌকা পারাপার হতে কমপক্ষে ৩০/-টাকা লাগে।

বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমাকে জানিয়েছেন যে,অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা কলা গাছের ভেলা বানিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। সাতার না জানায় নদীতে পরে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোন সময়। এমতাবস্থায় আমার বড় ভাই শামসুর রহমান পিন্টু চিন্তা করতে থাকেন শিক্ষার্থীদের জন্য কিভাবে সাহায্য করা যায়। পিন্টু ভাইয়ের কাছে থেকে বিস্তারিত শুনে আমি বাছট বৈলতলা পল্লী মঙ্গল সমিতির ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। বাছট ব্রিজ সংগ্রাম কমিটির সংগ্রামী সহ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রস্তাব করে যে,নৌকার মালিক দুলাল দা আমাদের বাছট গ্রামবাসীর জন্য দুইবার নৌকা পারাপারে ৫ টাকা নিচ্ছে। সেখানে যদি আমরা নিজেরা ১০ টাকা দেয়,তাহলে প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফ্রি তে পারাপার করার ব্যবস্থা করা যায় কি? দেলোয়ারের প্রস্তাব স্যালুট করার মতো। কিন্তু গ্রামবাসী নির্ধারিত ৫ টাকার বাইরে এখন আর নতুন করে দিগুণ টাকা দিতে চাইবেন না। এই সব চিন্তা করে আমার বড় ভাই বাছট ব্রিজ সংগ্রাম কমিটির সম্মানিত উপদেষ্টা শামসুর রহমান পিন্টু নিজে প্রত্যাশা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশারের সাথে আলাপ করে। পিন্টু ভাইয়ের অনুরোধে ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার নিজের পকেট থেকে সব শিক্ষার্থীদের নৌকা পারাপারের পুরো টাকা দিতে রাজি হয়। বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশারকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না। কিন্তু শিক্ষার্থী এবং তাদের সব অভিভাবকদেরকে এই খবরটি জানানো উচিৎ। আর দুলাল দাকে একবারে পুরো বর্ষা মৌসুমের কয় হাজার টাকা দেয়া উচিৎ? দ্রুত সবার পরামর্শ এবং মতামত দরকার,প্লিজ? যদিও কাজগুলো আসলে আমাদের না। কাজগুলো আসলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক কর্মীদেরই করা উচিৎ। কারন রাজনীতি তো মানুষের কল্যানের জন্যই। তারাও সেই জন্যই রাজনীতি করেন বলে আমি বিশ্বাস করতে চাই।

আপনাদের বিনে পয়সার কামলা

হাবিবুল্লাহ মিজান

সভাপতি বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি

তারিখঃ ১০ শে জুলাই,২০২৩ ইং, ঢাকা

অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা কলা গাছের ভেলা বানিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। সাতার না জানায় নদীতে পরে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ছবিঃ আশিকুর রহমান ফারিয়ান
আপনার মূল্যবান মতামতটি শেয়ার করুন